in , , , , ,

ছোট গল্প “মায়াবি মিতার অপেক্ষায়” এম এম, এহসান আলী

ছোট গল্প

সাহিত্য ডেস্কঃ
★মায়াবি মিতার অপেক্ষায়★
২০০২ ইং সালের স্বপ্নিল ডিসেম্বর ,ইতিহাস অলংকৃত অম্লান বিজয়ের মাস, বিজয়ের মাসে লম্বা ছুটির সুবর্ণ সুযোগে প্রকৃতির কিশোরী পতেজ্ঞায় ছুটে গিয়েছিল হৃদয়,রবিনের ১৫ সদসস্যের এক প্রকৃতি প্রেমির দল । চাঁপাই থেকে চট্রগ্রাম । একটা যেন উত্তেজনা পূর্ণ লং জার্নি ।
একটার পর একটা গাড়ি ক্রসিং করে ধুসর ফিতার মত পিচ ঢালা পথ বেয়ে শ্বাস্রুদ্ধকর শংকা ও সীমাহীন সার্থকতার সহিত পুস্প নন্দিত চট্টগ্রামের চার্মিং পেটের গহিনে ক্রমশ অনুপ্রবেশ করছিল রবিন হৃদয়ের গাড়ির দুরন্ত ছাত্রদল । গাড়িটা যতই ভেতরে ঢুকছিল শ্যামলিমা বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের সুস্মিতা সৈকতে ততই যেন অবগাহন করছিল তারা ।
ঘণ্টা কয়েক পরেই রবিন-রা ঢুকে পড়লো চার্মিং চিটাগং এর প্রান কেন্দ্রে। আহ ! কি আনন্দ ! কে,সি,দে রোড কেমন ভঙ্গিতে যেন স্বাগত জানালো ওদের। ডিসি হিলে ডিস্টার্ব না হলে ও পাহাড়ি পথের অপ্রত্যাশিত বন্ধুরতায় ব্যাকুল হয়ে পড়েছিল ওরা। স্থল ভাগেই যেন সমুদ্রের কঠিন উর্মি মালা। কোথাও অস্বাভাবিক উঁচু আবার কোথাও অযাচিত নিচু। পাহাড়ি জীবনের এ এক বিস্ময়কর বাস্তবতা। হৃদয় – রবিনরা হৃদয় উজাড় করে পর্যবেক্ষন করছিল চমকপ্রদ চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ। মধ্যাহ্নে পৌঁছল রবিন-দের গাড়িটা।
গাড়ি থেকে নামতেই “চম্পা” ও “চুমকি” নামে দুই পিচ্চি মিষ্টি মেয়ে সাদরে সাধুবাদ জানালো হৃদয় ও রবিনদের। হাতে শঙ্খ ঝিনুকের শুভ্র- সুন্দর মালা। চম্পা- চুমকী জমজ দু- বোন। মিনতীর ভাঙ্গতে মালা বেঁচতে চাইলো ওরা। রবিন ও হৃদয় মানিক জোড়া বন্ধু দু’জন। সদ্য স্নাতক ওরা। দু’ বন্ধুতেই বিশটি করে টাকা তুলে দেয় চম্পা –চুমকীর হাতে। মায়াবী মিষ্টি দু’বোনকে একটি করে কেক এবং একটি করে ‘’প্রান আপ’’ ও (ছোট ডান্ডা পানীয়) দেয় রবিন হৃদয় জুটি। মজার বাপার হলো ২৫ডিসেম্বর দু’বোন্ধুরই জন্ম দিন সেই সাথে খ্রীস্টমাস ডে অর্থাৎ বড়দিন। সে জন্যি রবিন ও হৃদয় চম্পা ও চুমকির মালা দুটি কিনে নিয়েও আবার ওদেরকে ফেরত দেয় এবং অন্যত্র বিক্রি করতে বলে। কৃতজ্ঞতায় কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে বিজয় উল্লাসে যেন তাধীন তাধীন নাচতে শুরু করে চঞ্চলা চম্পা ও চটুল চুমকী। বড় বোন ষোড়ষী ‘’মিতা রানী সাহা’’ দূর করে নীরবে অবলোকন করে –স-ব—। চম্পা –চুমকীর এ মালাগুলো প্রেম –পিরিতের কোন আবেগের মালা ছিলনা বরং পুষ্টি হীন পেটে জ্বালা মেটাতে খাদ্যের জামীন স্বরূপ ১০/১৫ টা টাকার এক মিনতীর মালা—-। তাইতো ওরা পিচ্চি বয়সে দুর্দম পেট- পুজারী। পেশা নয় বরঞ্চ পৃথিবীর পাষান

দোযখ পেটের পুজায় পরিশ্রান্ত ওরা। ‘’হৃদয়’’ যেন হৃদয় দিয়েই অনুধাবন করে ব্যপারটি। গম্ভীর হয়ে ধীর লয়ে একায় হাঁটতে থাকে হৃদয়। রম্বস সাইজের একটা নূড়ী পাথরের উপর বসে পড়ে রবিন। ক্যামেরায় বন্দী করে প্রেয়ষী-পতেঙ্গার প্রানবন্ত যৌবন। সী-বীচের অপরূপ রুপের মাধুয্য। চম্পা -চুমকীও বাদ পড়েনা। হৃদয় অতিশয় আবেগ প্রবণ তাই সে আবেগ ঘনমূহুরতে এগিয়ে যায় সাগর বেলার চোরাবালীর দিকে ছলাত ছলাত শব্দে দুটি পা ধুয়ে যায় লোনাজলে ।এটারও ভিডিও করে রবিন। দ্রুতগতিতে রবিনের কাছে ছুটে আসে নয়া যৌবনা মিতারানী সাহা। হৃদয়কে ফিরে আসার জন্য রবিনকে সতর্কতার সহিত অনুরোধ জানায় মিতা। ইতোমধ্যেই চোরাবালিতে পা গেঁড়ে যায় হৃদয়ের। মিতার চেষ্টায় ভাগ্যিস রবিনের সুদীর্ঘ হাঁকে পেছনে ফিরে হৃদয়। জোয়ারের জল আসতে থাকে। রবিন দৌড়ে গিয়ে টানতে টানতে উপরে আনে হৃদয়কে দুবন্ধুই যেন ভিজে লুটোপুটি। মিতা, চম্পা, চুমকী তিন বোনই এগিয়ে যায় জলে ভেজা ঐ রবিন-হৃদয়ের কাছে।
এর একটু অগ্রসর হলেই হৃদয়ের হৃৎপিণ্ড শান্ত হওয়ার উপক্রম হচ্ছিল-বৈকি। বিষন্ন বদনে বলতে থাকে ‘’মিতা’’ । মিতা আরও জানায় তার বড় ভাই ‘’সজিব’’ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ঐ চোরাবোলির ফাঁদে। মিতা মায়াবী মুখপানে চাতকের মত চেয়ে থাকে রবিন-হৃদয় দুইজন। বন্ধু দু’জনই বুঝতে পারে যে, মিতার সতর্কতায় আসন্ন বিপদ থেকে হৃদয়ের পরিত্রান। সহযাত্রীরা শংকিত সবাই। পোষাক পাল্টে স্বাভাবিক হয় হৃদয়। রবিন চিন্তিত ,যদি মিতা সতর্ক না করতো——।

হৃদয় আবারও গম্ভীর ।জন্মদিনে মৃত আপার কথা মনে পড়ছে ওর। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর গুলিতে নাকি শহীদ হয়েছে হৃদয়ের আপা। ওর নাম ছিল ‘’মিতা’’। মিতা নামটি শুনার পরই গম্ভীর হয়ে যায় হৃদয়। রবিন অনুভব করছি্ হৃদয় ভাঙ্গা ‘’হৃদয়ের কষ্ট’’। রবিন হৃদয়কে নিয়ে অগ্রসর হয় মিতার নিকট। মিতাও চম্পা-চুমকীকে নিয়ে আসতে থাকে রবিনদের খোঁজে। পথিমধ্যে মুখোমুখী হয় পাঁচ জন। রবিন হৃদয়ের কষ্টটা বুঝাতে সক্ষম হয় মায়াবী মিতাকে। মিতাও বড় ভাই হারানোর কষ্টে যেন কুঁকড়ে যায় ।মিলিনে মধুর, বেদনায় বিধুর মিশ্র অনুভুতিতে অস্থির হয়ে যায় রবিন-হৃদয়ের সঙ্গীরা। রিজার্ভ গাড়ীর ড্রাইভার এসে তাকিদ দেয় স্যার, সময় নেই রওয়ানা দিতে হইবো।
গরীব মিতারা অতি কষ্টে সংসার চালায়। বৃদ্ধ বাবা-মার খেদমতের পাশাপাশি পড়া লেখা করে। তবুও হৃদয়কে বড় ভাই ভেবে ভক্তি ভরে আন্তরিক শ্রদ্ধা জানায়। গরীবালয়ে নিমন্ত্রন্য জানায়। এমন কি সম্মিলিত সবাইকে একটি করে শঙ্খমালা উপহার দেয়। মূল্য দিতে চাইলে লজ্জিত বেশে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে মিতা। চম্পা-চুমকী ফ্যাল ফ্যাল চেয়ে থাকে ।ড্রাইভার চলে যায় গাড়ীতে। দুজন-দুজনার ভাই বোন ভেবে আবেগে কাঁদে অনেকক্ষন। ভেজা চোখে ভাই যেন বোনকে কয়েকটি ফটোগ্রাফ সহ এ্যাড্রেস ধরিয়ে দেয়। ‘’বোন ভাই চলো যাই’’। বলে উঠে দাঁড়ায় রবিন। স্পেশাল ভাবে মিতার কয়েকটি ছবি উঠায় সে। সুন্দরী মিতাকে দারুন পছন্দ রবিনের। অপ্সরা মায়াবী মিতা প্রেয়ষী পতেঙ্গার মতই পবিত্র। রাগে রাতুল। রাগতঃস্বরে সতর্ক করে রবিনকে। সাথে সাথে ভাই স্বরূপ হৃদয়কে অভিযোগ করে। হৃদয় বন্ধুর পক্ষ থেকে বোন স্বরূপ মিতার কাছে ক্ষমা চাইতে উদ্যত হলে চম্পা-চুমকী বাধা দেয়।

গাড়ীর চালক গাড়ী নিয়ে হাজির। রবিন আবারও দুইশত টাকা চম্পা-চুমকী দুজনের হাতে গোপনে দিলেও দেখে নেয় মনোহরিনী মিতা। মিষ্টি হাসিতে মিতা নিজাই একটি বিশেষ মালা চম্পাকে দেয় রবিনকে দেয়ার জন্য এবং চুমকীকে দুইশত টাকা ফেরত” দিতে বলে। হৃদয় হৃদয়ঙ্গমকরে ব্যপারটি। হৃদয়ের ঠোঁট দুটিতে দেখা দেয় হাসির ঝিলিক। বউ মরা ব্যবসায়ী রবিনের সঙ্গে দারুন মানাবে মায়াবী মিতাকে। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে গাড়ীতে গিয়ে বসে হৃদয়। রবিন পকেট থেকে একটা ফুটন্ত গোলাপ বের করে মিতাকে দেয়। মিতা হৃদয়ের দিকে তাকায়। হৃদয় ইশারায় ফুলটি নিতে বলে। ডান হাতে আলতো ভাবে গোলাপটি গ্রহণ করে মিষ্টি মিতা। চম্পা ও চুমকী মিতার দুপাশে দাঁড়ায়। চালক গাড়ী স্টার্ট দেয়। মিতার দু’চোখে বেয়ে ঝরে পড়ে অশ্রুর ঝর্না ।টাটা দিতে দিতে বিদায় নেয় হৃদয় ও রবিন। নতুন আকাংখায় দীর্ঘশ্বাসে রবিন মাঝে মাঝে পিছু ফিরে চায় মিতার নেশায়। মিউজিকের ছন্দে গাড়ীতে বাজতে থাকেঃ বড় সাধ জাগে—-একবার তোমায় দেখি—–। দ্রুত চলতে থাকে গাড়ী। রবিনের হৃদয়ে যেন বার বার ভেসে ওঠে মিতার মুখচ্ছবি। সবাই পৌঁছে যায় আপন ঠিকানায় ।রবিন বিনিদ্র নিশি জাগে মিতার অপেক্ষায়।

লেখকঃ এম এহসান আলী(আরাম).

What do you think?

Shahin Alam

Written by Shahin Alam

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

মাক্স ব্যাবহার না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের দোয়া মাহফিল